মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১

আমরা হাঁচি দেই কেন? Why do we sneeze?

 

আমরা হাঁচি দেই কেন?, Why do we sneeze?

আমরা হাঁচি দেই কেন? Why do we sneeze?

বলুন তো দেখি, হাঁচি দেয়ার সময় আমাদের দেহের কয়টি অংগ কেপে উঠে? ভাবতে থাকুন, এই ফাঁকে আমি বলে দিচ্ছি আমাদের হাঁচি কেন আসে!

নাকের ভেতরে প্রবেশ করে কোনো কিছু যদি বিরক্ত করতে শুরু করে, তখন উপায় কী?
উপায় হলো হাঁচি!

হাঁচি দিয়ে সেসব বিরক্তিকর জিনিসকে বের করে দেয়া চেষ্ঠা করা হয়। এখন প্রশ্ন হলো, বিরক্তিকর জিনিস কী কী হতে পারে!!!

এই যেমন ধরুন- ধুলো -বালি, ঠাণ্ডা বাতাস, ঝাঁঝালো উতকট গন্ধ, ঠাণ্ডার জীবাণু বা ভাইরাস অনেকের আবার নানা জিনিসে অ্যালার্জি থাকতে পারে, এই অ্যালার্জির জন্যও হাঁচি আসতে পারে। আরেকটা মজার কারণেও হাঁচি আসতে পারে- অনেকের উজ্জ্বল আলোতে এলেই  হাঁচি আসে! প্রায় প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জনের এই সমস্যাটা থাকে! উজ্জ্বল আলোতে এলেই তাদের হাঁচি আসে। অদ্ভুত তাই না?

আমাদের অনেকের কখোনো কখনো হাঁচি- পায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হাঁচি দেয়া হয় না। সে সময় উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন তো, হাঁচি আসে কি না! তাই বলে আবার একেবারে সূর্যের দিকে তাকানো যাবে না, সেটা কিন্তু চোখের জন্যও ক্ষতিকর। 

হাঁচি দেয়ার সময় আমাদের শরীরের কতো গুলো প্রত্যঙ্গে কাঁপুনি ধরে?

উত্তরটা হল, হাঁচির সময় আমাদের এবডোমিনাল(তলপেটের) পেশী কাঁপে, বুকের পেশী কাঁপে, ফুসফুসের নিচে অবস্থিত ডায়াফ্রাম কাঁপে, ভোকাল কর্ডের পেশী কাঁপে (এর মাধ্যমে আমরা কথা বলি), গলার পেছনের পেশী কাঁপে, চোখের পেশীগুলোও কাঁপে। এখন, এই এতোগুলো পেশীর কাঁপুনি ঠিকঠাক মতো হচ্ছে কি না, সেটাও কিন্তু মস্তিষ্ককে তদারকি করতে হয়। এই কাঁপুনির ও একটা ক্রম বা সিরিয়ালও আছে, মস্তিষ্ককে সেই ক্রমও ঠিকমতো বজায় রাখতে হয়। মস্তিষ্ক যখন খবর পায়, তখন সে এসব পেশিগুলোতে খবর পাঠায়- রেডি হও। তারপর সবাই একসাথে যখন নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করে, তখনই আমরা হাঁচি দেই। তাহলে এবার ভাবুন, এই সাধারণ হাঁচি জিনিসটাও আসলে কী পরিমাণ জটিল!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন